0

nation News: নির্মাণকাজে আরও অশ্রদ্ধায় কেরির সমাধি প্রদীপ – keri’s grave lamp


নির্মাণকাজে আরও অশ্রদ্ধায় কেরির সমাধি

প্রদীপ চক্রবর্তী, শ্রীরামপুর

শিক্ষার প্রসার, বাংলা হরফ নির্মাণ, প্রথম বাংলা ছাপাখানা, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে বাংলা ভাষা ও বাঙালিকে চিরঋণী করে গিয়েছেন যাঁরা, অশ্রদ্ধা-অবহেলায় পড়ে আছে তাঁদের সমাধি। শহরবাসীর আক্ষেপ, স্মৃতিফলকে উৎকীর্ণ নামগুলি পড়া যায় না। এলাকাটি ভরে আছে বড় বড় জংলি ঘাসেও।

সে দেশের ন্যাশনাল মিউজিয়ামের (শ্রীরামপুর ইনিশিয়েটিভ) সক্রিয় সহায়তায় সংস্কার হয়েছে সাবেক ডেনিশ উপনিবেশ শ্রীরামপুরের ডেনমার্ক ট্যাভার্ন-এর। প্রায়ই পর্যটকের ঢল নামছে সেখানে। কলি ফিরেছে ডেনিশ গভর্নরস হাউসের। কিন্তু কেরিদের সমাধিক্ষেত্রের ধারেকাছে পৌঁছয়নি কোনও সংস্কার-উদ্যোগ। এখানেই রয়েছে শ্রীরামপুর কলেজের তিন প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান, উইলিয়াম ওয়ার্ড এবং কেরি সাহেবের স্ত্রী-পুত্র ডরোথি ও ফেলিক্সের সমাধি। কিন্তু এই সমাধিক্ষেত্রের দেওয়াল ঘেঁষে চলছে নির্মাণকাজ। সমাধির কার্যত গায়েই রয়েছে ইমারতি দ্রব্য, টিন, পাইপের স্তূপ। পিছনের পাঁচিল ঘেঁষে কেউ জামাকাপড়, ব্যাগ রেখে দিয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পাশের রাস্তা নতুন ভাবে ঢালাই করা হচ্ছে। সে কারণে ইমারতি দ্রব্য রাখা হয়েছে সমাধিক্ষেত্রের বাইরে।

শ্রীরামপুর সেতুর পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে পিচ রাস্তা। পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেই রাস্তা ধরে কিছুটা এগোলে পড়বে এই সমাধিক্ষেত্র। স্থানীয়রাই জানান, সমাধিক্ষেত্রর লোহার দরজা বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে। বছরের বিশেষ সময় সেই দরজা খোলা হয়।

সমাধিক্ষেত্র ঘেঁষে ইমারতি দ্রব্যের স্তূপ এবং জামাকাপড়ের সারিতে ক্ষুব্ধ শ্রীরামপুর কলেজের অধ্যাপক তথা কেরি গবেষক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘সেখানে কেরি, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের সমাধি ছাড়াও আরও অনেকের সমাধি রয়েছে। যে কারণে সেটিকে হেরিটেজ তকমা দেওয়া হয়েছে। আইনে বলা আছে, হেরিটেজ সম্পত্তির চারপাশ ফাঁকা রাখতে হবে। তা সত্ত্বেও সমাধিক্ষেত্রের এমন অবহেলায় আমরা মর্মাহত। জনবসতি বাড়ছে, তাতে কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু কালের গ্রাসে যেন আমাদের হেরিটেজ সম্পত্তি চলে না যায়, সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি।’ স্থানীয় কাউন্সিলর রাজীব দত্ত বলেন, ‘কেউ বা কারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন, কেরি সাহেবের সমাধিস্থলের প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। কোথাও কোনও প্রাচীর ভাঙা হয়নি। সমাধির দু’টো বাড়ি পর একটি পুরোনো দিনের বাড়ি আইন মেনে হস্তান্তর হয়েছে। তবে যারা সমাধিক্ষেত্রের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ইমারতি দ্রব্য রেখেছে, তাদের সে সব সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। কেরি সাহেবের সমাধিস্থল শ্রীরামপুর কলেজ দেখভাল করে। ওদের নিজস্ব কমিটিও রয়েছে।’ এ ব্যাপারে শ্রীরামপুর কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল বিদ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা বিষয়টা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে কলেজের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’





Source link

amulyam.ooo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *